হেরে_যাওয়া_কিংবা_জিতে_যাওয়া by ইলিয়ানা
ছোট্ট পার্সেল বক্স টা খুলে দেখি একটা ব্লু ডায়মন্ড রিং। এবং ডায়মন্ড এর সাইজ মোটামোটি ভালো আকারের।এরকম প্রমাণ সাইজের হীরে বসানো একটা আংটির দাম ধারনা করলে লাখ দুয়েক হওয়ার কথা।হালকা নীল রঙের হীরক পাথরটা থেকে যেন নীল রশ্মি বের হচ্ছে। আমি ধপ করে বসে পড়লাম বিছানায়।এটা যদি আম্মু দেখে তাহলে মেরেই ফেলবে আমাকে।কে এতো দামি দামি জিনিস শুধু শুধু আমাকে দিচ্ছে।রবি তো দিচ্ছেনা। আর শুভ্র দেয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা। কারণ শুভ্র বা রবি, কারোরই এখনই এতো দামি উপহার দেয়ার সামর্থ্য হয়নি।আমি এমন উপহার আশাও করিনা।জেনীকে কল দিয়ে দ্রুত ঘটনা বললাম।হীরার আংটিটা আমার পারসোনাল লকারে তুলে রাখলাম।
.........
শুভ্রর জন্য নভোথিয়েটার এর ক্যাফের ভেতর অপেক্ষা করছি।আমরা বেশিরভাগ সময় এখানটা তেই দেখা করি।জায়গাটা সেইফ জোন আমাদের জন্য। শুভ্রর পরিচয় দেয়া যাক। শুভ্র আমার প্রেমিক।সোজা বাংলায় যাকে নিয়ে আমি ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখি সে হল শুভ্র।রবির সাথে বাসা থেকে তিন বছর আগে বিয়ে ঠিক হলেও,এক বছরের মাথায় আমি শুভ্রের প্রেমে পড়ি। একবছরে রবির আর আমার আচরণগত এবং মতামত গত অমিলের কারণেই হয়ত আমি শুভ্রের সাথে জড়িয়ে যাই।শুভ্র পুরো আমার ধাচের। দুইজনই একরকম।তাই আমার শখ আর ইচ্ছাগুলোকে সে সবসময় ফার্স্ট প্রায়োরিটি দেয়।এই দিক থেকে রবি দশ এ শুণ্য।আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার চেয়ে তার কাছে যেটা ভালো মনে হবে,সেটাই শ্রেয়। রবির সাথের পুরো ব্যাপারটাই শুভ্র জানে।বিয়ে নিশ্চিত জেনেও ছেলেটা সম্পর্ক টা কে সামনের দিকে টেনে নিয়েছে।
এইযে দুই মাস পর বিয়ে আমার আর রবির,তবুও শুভ্রের ধারণা বিয়েটা আমার শুভ্রের সাথেই হবে। শুধুমাত্র একবুক বিশ্বাস নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।সামনের টা নাহয় সামনেই দেখা যাবে।
সিড়িতে চোখ পড়তেই দেখি শুভ্র আসছে।আজকে ও একটা সাদা শার্ট পড়েছে। আমার ধারনা ছিল সাদা রঙ শ্যামলা মানুষদের মানায়না।শুভ্রকে দেখে আজ আমার সেই ভুল ভাঙল।শুভ্রকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো দেবদূত হাসি হাসি মুখে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলাম আর স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলাম, "এই ছেলেটা কে আমার করে দাও আল্লাহ,প্লিজ আমার করে দাও।"
শুভ্র এসেই পাশের চেয়ারটায় বসল। বরাবরের মত আজও এসেই বলল, "মিষ্টি মেয়েটা,এতো মিষ্টি কেন তুমি?ভালোবাসি।"
আমি ছোট্ট করে হাসি দিলাম।
গতকয়েকদিনের ঘটনাগুলো শুভ্রকে ফোনে ছোটো করে বলেছিলাম।এখন ডিটেইলসে বলার জন্যই দেখা করা।
"শুভ্র,ব্যাপারটা কি কিছু বুঝতে পারছ? এই পার্সেল এর যন্ত্রণায় তো পাগল হয়ে যাব।তার উপর গতকাল যা দিয়েছে,আম্মু যদি জানে,কেয়ামত করে ফেলবে বাসায়"
- "আহা ইলি,তোমার তো পুরোই রাজকপাল।বিয়ের আগে দিয়েও অচেনা ছেলেরা তোমায় গিফট পাঠায়।আহ,কেন যে আজ মেয়ে হলাম না!"
- " ফাইজলামি করবানা তো প্লিজ।দাঁত কেলানো বন্ধ কর।তুমি ব্যাপারটার সিরিয়াসনেস বুঝতেছইনা আজব!"
- "আচ্ছা বাবাই, সরি। ভুল হয়ে গেছে।আর হবেনা।বল এবার।"
- " এই পার্সেল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাচ্ছি।বুদ্ধি দাও।তোমার মাথায় না এতো এতো বুদ্ধি,এখন আমাকে উদ্ধার কর"
- "আমার মনে হয় আমাদের আরেকটু দেখা উচিত ইলি। আরো কিছুদিন দেখি আমরা কি বল?"
- "তোমার যা ভালো মনে হয়"
এরপর আমরা টুকটাক গল্প করে খেয়ে যে যার বাসায় গেলাম।
বাসায় ফিরে দেখলাম আম্মু বাসায় নেই।কল দিলাম।আম্মু জানালো নানুর বাসায় গিয়েছে।ফিরতে রাত হবে। ভাবলাম ল্যাপটপ এ মুভি দেখে ফেলি একটা। এক বাটি আচার নিয়ে বসেছি।আচার খাচ্ছি আর "ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দা সি" মুভি টা দেখছি। কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে দরজার কাছে গেলাম।গিয়ে লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই।তাহলে কি নিচে কেউ আসছে! বেলকনি দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই।আবার দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুললাম।খুলেই দেখি একটা বাক্স।এবার ডেলিভারি ছেলেটা বাক্স দিয়েই পালিয়েছে। বাক্স নিয়ে ভিতরে ঢুকব এমন সময় দেখি আম্মুও চলে আসছে।বক্স দেখেই আম্মু রেগে গেল। আমি বললাম,তোমার না রাতে আসার কথা?এখন আসছ যে? আম্মুর কথার জবাব পেয়ে গেলাম যখন দেখলাম আম্মুর পিছনে রবি। রবি এসেই বলল,
"এটা কিসের বক্স? তোমাকে না বলছি অনলাইনে কেনাকাটার দরকার নেই।অপরিচিত ডেলিভারি বয় রা বাসায় আসবে,এ ব্যাপারটা আমার মোটেও পছন্দ না,তুমি সেটা জানোনা?"
আমি কিছু বলার আগেই আম্মু বলল, "আরে ইলি না,আমি অর্ডার দিয়েছিলাম,সেটাই দিয়ে গেছে"
যাক আম্মু ব্যাপারটা ঘুরিয়ে দিল। বাক্স নিয়ে ঘরে ঢুকলাম।
এতো হালকা বাক্স,মনে হচ্ছে কিছুই নেই।আম্মু রবিকে চা দেয়ার ফাঁকে আমি বাক্স টা খুলে ফেলি।খুলে দেখি এক কোণে একটা কাগজ ছাড়া আর কিছুই নেই।কাগজটা হাতে নেয়ার সাথে সাথে আম্মু আসল রুমে। দুইজনে মিলে ভেতরের লেখাটা পড়তে শুরু করলাম।
প্রিয়,
জানি ভালো আছ।আজ আর উপহার পাঠিয়ে চমকালাম না।খালি বাক্স টা দিয়েই চমকে দিলাম। তোমাকে একটা কথা বলি ভালো করে শোনো।দুইমাস পরে তোমার রবির সাথে বিয়ে।এই বিয়েটা তুমি করবেনা।তুমি নিজে এই বিয়েটা ভেঙে দেবে।যদি নিজে না ভাঙ তাহলে আমাকেই কিছু করতে হবে
ইতি-
শুভাকাঙ্ক্ষী
এবার আর আম্মু আমাকে বকলনা।আম্মু যথেষ্ট ভয় পেল।সাথে সাথে আমিও।এ কেমন ধরনের আবদার।তবে কি শুভ্র বিয়েটা ভাঙার জন্য এই প্ল্যান করল? উহু দুইয়ে দুইয়ে চার তো মিলছেনা।শুভ্রকে শক্ত করে ধরতে হবে।তার আগে দ্রুত কুরিয়ার অফিসে যেতে হবে।আম্মুকে বলে আমি বাসা থেকে তখনই বের হলাম। রিক্সা নিয়ে কুরিয়ার অফিস গিয়ে আমার বাসার এরিয়ায় ডেলিভারি বয় দের খোঁজ নিলাম।ওই এলাকায় দুইজন পার্সেল সাপ্লাই দিয়ে থাকে।দুইজন কে ডাকা হলে অবাক হয়ে দেখলাম এরা দুজনের কেউই আমাকে পার্সেল দেয়নি।
বাসায় ফিরলাম। যা বুঝলাম তা হল আমার সন্দেহই ঠিক।উনি কোনো ডেলিভারি বয়ই না।তাহলে কি গিফটস গুলো উনি দিচ্ছে?না তা কিভাবে হয়।আমি তো উনাকে কোনোদিন দেখিইনি।নাকি কেউ হাতে হাতে পাঠাচ্ছে উনার মাধ্যমে।উফ,এই রহস্যের সমাধান কি!কে এই শুভাকাঙ্ক্ষী? বিয়েটা ভেঙে দিতে বলছেই বা কেন?
......
বাসায় ফিরে দেখি আব্বু বাসায় এসেছে আর রবি চলে গিয়েছে।আম্মু আব্বুকে পুরো ঘটনা প্রথম থেকে বলল।যেহেতু হীরার আংটি টার কথা আম্মু নিজেই জানেনা,তাই সেটা আব্বুও জানলোনা।আব্বুও ঘটনা শুনে চিন্তিত হয়ে গেল।বলল, "বিয়ের আগে দিয়ে এরকম উড়ো চিঠি আসে।কিন্তু এরকম দামী শাড়ি,ফুল এগুলো তো কেউ সাধ করে পাঠায়না।ব্যাপারটা অদ্ভুত বটে"
আমি রুমে চলে আসলাম।মাথাটা ধরে আছে।আজকের কাহিনী শুভ্রকে বলতে হবে।আজ আর সম্ভব না।কাল বরং বলব।পেইন কিলার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম সন্ধ্যা বেলাতেই।
........
পরদিন শুভকে বলতেই শুভ বলল, "বাহ,দারুণ তো। তোমাদের বিয়েটা ভাঙতে আল্লাহ মে বি ফেরেস্তা পাঠিয়েছে। আহ থ্যাংক্স আল্লাহ"-বলেই হাসতে শুরু করল।এই ছেলেটাও না!
.......
শুভ্রকে বিদায় দিয়ে বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ এক পিচ্চি টোকাই পিছন থেকে ওড়না টান দিল। পিছে ফিরতেই আমার হাতে একটা নীল চিরকুট দিয়ে দৌড়ে পালাল।চিরকুট খুলে দেখলাম সেই পুরোনো হাতের লেখা।চিরকুটের লেখা পড়ে আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল।এ তো রীতিমত হুমকি দেয়া চিরকুট।
ভয়ে ফুটপাতে বসে পড়লাম।
# চলবে
©ইলিয়ানা
.........
শুভ্রর জন্য নভোথিয়েটার এর ক্যাফের ভেতর অপেক্ষা করছি।আমরা বেশিরভাগ সময় এখানটা তেই দেখা করি।জায়গাটা সেইফ জোন আমাদের জন্য। শুভ্রর পরিচয় দেয়া যাক। শুভ্র আমার প্রেমিক।সোজা বাংলায় যাকে নিয়ে আমি ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখি সে হল শুভ্র।রবির সাথে বাসা থেকে তিন বছর আগে বিয়ে ঠিক হলেও,এক বছরের মাথায় আমি শুভ্রের প্রেমে পড়ি। একবছরে রবির আর আমার আচরণগত এবং মতামত গত অমিলের কারণেই হয়ত আমি শুভ্রের সাথে জড়িয়ে যাই।শুভ্র পুরো আমার ধাচের। দুইজনই একরকম।তাই আমার শখ আর ইচ্ছাগুলোকে সে সবসময় ফার্স্ট প্রায়োরিটি দেয়।এই দিক থেকে রবি দশ এ শুণ্য।আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার চেয়ে তার কাছে যেটা ভালো মনে হবে,সেটাই শ্রেয়। রবির সাথের পুরো ব্যাপারটাই শুভ্র জানে।বিয়ে নিশ্চিত জেনেও ছেলেটা সম্পর্ক টা কে সামনের দিকে টেনে নিয়েছে।
এইযে দুই মাস পর বিয়ে আমার আর রবির,তবুও শুভ্রের ধারণা বিয়েটা আমার শুভ্রের সাথেই হবে। শুধুমাত্র একবুক বিশ্বাস নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।সামনের টা নাহয় সামনেই দেখা যাবে।
সিড়িতে চোখ পড়তেই দেখি শুভ্র আসছে।আজকে ও একটা সাদা শার্ট পড়েছে। আমার ধারনা ছিল সাদা রঙ শ্যামলা মানুষদের মানায়না।শুভ্রকে দেখে আজ আমার সেই ভুল ভাঙল।শুভ্রকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো দেবদূত হাসি হাসি মুখে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলাম আর স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলাম, "এই ছেলেটা কে আমার করে দাও আল্লাহ,প্লিজ আমার করে দাও।"
শুভ্র এসেই পাশের চেয়ারটায় বসল। বরাবরের মত আজও এসেই বলল, "মিষ্টি মেয়েটা,এতো মিষ্টি কেন তুমি?ভালোবাসি।"
আমি ছোট্ট করে হাসি দিলাম।
গতকয়েকদিনের ঘটনাগুলো শুভ্রকে ফোনে ছোটো করে বলেছিলাম।এখন ডিটেইলসে বলার জন্যই দেখা করা।
"শুভ্র,ব্যাপারটা কি কিছু বুঝতে পারছ? এই পার্সেল এর যন্ত্রণায় তো পাগল হয়ে যাব।তার উপর গতকাল যা দিয়েছে,আম্মু যদি জানে,কেয়ামত করে ফেলবে বাসায়"
- "আহা ইলি,তোমার তো পুরোই রাজকপাল।বিয়ের আগে দিয়েও অচেনা ছেলেরা তোমায় গিফট পাঠায়।আহ,কেন যে আজ মেয়ে হলাম না!"
- " ফাইজলামি করবানা তো প্লিজ।দাঁত কেলানো বন্ধ কর।তুমি ব্যাপারটার সিরিয়াসনেস বুঝতেছইনা আজব!"
- "আচ্ছা বাবাই, সরি। ভুল হয়ে গেছে।আর হবেনা।বল এবার।"
- " এই পার্সেল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাচ্ছি।বুদ্ধি দাও।তোমার মাথায় না এতো এতো বুদ্ধি,এখন আমাকে উদ্ধার কর"
- "আমার মনে হয় আমাদের আরেকটু দেখা উচিত ইলি। আরো কিছুদিন দেখি আমরা কি বল?"
- "তোমার যা ভালো মনে হয়"
এরপর আমরা টুকটাক গল্প করে খেয়ে যে যার বাসায় গেলাম।
বাসায় ফিরে দেখলাম আম্মু বাসায় নেই।কল দিলাম।আম্মু জানালো নানুর বাসায় গিয়েছে।ফিরতে রাত হবে। ভাবলাম ল্যাপটপ এ মুভি দেখে ফেলি একটা। এক বাটি আচার নিয়ে বসেছি।আচার খাচ্ছি আর "ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দা সি" মুভি টা দেখছি। কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে দরজার কাছে গেলাম।গিয়ে লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই।তাহলে কি নিচে কেউ আসছে! বেলকনি দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই।আবার দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুললাম।খুলেই দেখি একটা বাক্স।এবার ডেলিভারি ছেলেটা বাক্স দিয়েই পালিয়েছে। বাক্স নিয়ে ভিতরে ঢুকব এমন সময় দেখি আম্মুও চলে আসছে।বক্স দেখেই আম্মু রেগে গেল। আমি বললাম,তোমার না রাতে আসার কথা?এখন আসছ যে? আম্মুর কথার জবাব পেয়ে গেলাম যখন দেখলাম আম্মুর পিছনে রবি। রবি এসেই বলল,
"এটা কিসের বক্স? তোমাকে না বলছি অনলাইনে কেনাকাটার দরকার নেই।অপরিচিত ডেলিভারি বয় রা বাসায় আসবে,এ ব্যাপারটা আমার মোটেও পছন্দ না,তুমি সেটা জানোনা?"
আমি কিছু বলার আগেই আম্মু বলল, "আরে ইলি না,আমি অর্ডার দিয়েছিলাম,সেটাই দিয়ে গেছে"
যাক আম্মু ব্যাপারটা ঘুরিয়ে দিল। বাক্স নিয়ে ঘরে ঢুকলাম।
এতো হালকা বাক্স,মনে হচ্ছে কিছুই নেই।আম্মু রবিকে চা দেয়ার ফাঁকে আমি বাক্স টা খুলে ফেলি।খুলে দেখি এক কোণে একটা কাগজ ছাড়া আর কিছুই নেই।কাগজটা হাতে নেয়ার সাথে সাথে আম্মু আসল রুমে। দুইজনে মিলে ভেতরের লেখাটা পড়তে শুরু করলাম।
প্রিয়,
জানি ভালো আছ।আজ আর উপহার পাঠিয়ে চমকালাম না।খালি বাক্স টা দিয়েই চমকে দিলাম। তোমাকে একটা কথা বলি ভালো করে শোনো।দুইমাস পরে তোমার রবির সাথে বিয়ে।এই বিয়েটা তুমি করবেনা।তুমি নিজে এই বিয়েটা ভেঙে দেবে।যদি নিজে না ভাঙ তাহলে আমাকেই কিছু করতে হবে
ইতি-
শুভাকাঙ্ক্ষী
এবার আর আম্মু আমাকে বকলনা।আম্মু যথেষ্ট ভয় পেল।সাথে সাথে আমিও।এ কেমন ধরনের আবদার।তবে কি শুভ্র বিয়েটা ভাঙার জন্য এই প্ল্যান করল? উহু দুইয়ে দুইয়ে চার তো মিলছেনা।শুভ্রকে শক্ত করে ধরতে হবে।তার আগে দ্রুত কুরিয়ার অফিসে যেতে হবে।আম্মুকে বলে আমি বাসা থেকে তখনই বের হলাম। রিক্সা নিয়ে কুরিয়ার অফিস গিয়ে আমার বাসার এরিয়ায় ডেলিভারি বয় দের খোঁজ নিলাম।ওই এলাকায় দুইজন পার্সেল সাপ্লাই দিয়ে থাকে।দুইজন কে ডাকা হলে অবাক হয়ে দেখলাম এরা দুজনের কেউই আমাকে পার্সেল দেয়নি।
বাসায় ফিরলাম। যা বুঝলাম তা হল আমার সন্দেহই ঠিক।উনি কোনো ডেলিভারি বয়ই না।তাহলে কি গিফটস গুলো উনি দিচ্ছে?না তা কিভাবে হয়।আমি তো উনাকে কোনোদিন দেখিইনি।নাকি কেউ হাতে হাতে পাঠাচ্ছে উনার মাধ্যমে।উফ,এই রহস্যের সমাধান কি!কে এই শুভাকাঙ্ক্ষী? বিয়েটা ভেঙে দিতে বলছেই বা কেন?
......
বাসায় ফিরে দেখি আব্বু বাসায় এসেছে আর রবি চলে গিয়েছে।আম্মু আব্বুকে পুরো ঘটনা প্রথম থেকে বলল।যেহেতু হীরার আংটি টার কথা আম্মু নিজেই জানেনা,তাই সেটা আব্বুও জানলোনা।আব্বুও ঘটনা শুনে চিন্তিত হয়ে গেল।বলল, "বিয়ের আগে দিয়ে এরকম উড়ো চিঠি আসে।কিন্তু এরকম দামী শাড়ি,ফুল এগুলো তো কেউ সাধ করে পাঠায়না।ব্যাপারটা অদ্ভুত বটে"
আমি রুমে চলে আসলাম।মাথাটা ধরে আছে।আজকের কাহিনী শুভ্রকে বলতে হবে।আজ আর সম্ভব না।কাল বরং বলব।পেইন কিলার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম সন্ধ্যা বেলাতেই।
........
পরদিন শুভকে বলতেই শুভ বলল, "বাহ,দারুণ তো। তোমাদের বিয়েটা ভাঙতে আল্লাহ মে বি ফেরেস্তা পাঠিয়েছে। আহ থ্যাংক্স আল্লাহ"-বলেই হাসতে শুরু করল।এই ছেলেটাও না!
.......
শুভ্রকে বিদায় দিয়ে বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ এক পিচ্চি টোকাই পিছন থেকে ওড়না টান দিল। পিছে ফিরতেই আমার হাতে একটা নীল চিরকুট দিয়ে দৌড়ে পালাল।চিরকুট খুলে দেখলাম সেই পুরোনো হাতের লেখা।চিরকুটের লেখা পড়ে আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল।এ তো রীতিমত হুমকি দেয়া চিরকুট।
ভয়ে ফুটপাতে বসে পড়লাম।
# চলবে
©ইলিয়ানা
Post a Comment